নাগরিক সনদ (সিটিজেন চার্টার) বাস্তবায়নে সুপারিশসমূহ (Recommendtions for Making Citizen Charter Effective in Bangladesh)   Leave a comment

গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংবিধান অনুসারে এ প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। আর প্রজাতন্ত্রের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সেবাসমূহ যথাসময়ে, যথাযথভাবে নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও সরকারী দপ্তরসমূহ জনগণ কর্তৃক নিযুক্ত। কাজেই, সরকারী চাকুরীতে নিযুক্ত প্রজাতন্ত্রের সব কর্মচারী নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সেবাসমূহ নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ। দূর্ভাগ্যবশতঃ ঔপনিবেশিক ও স্বৈরতান্ত্রিক অতীত এবং গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব আমাদের প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে; ফলে তারাও সংবেদনশীল, দায়বদ্ধ সেবাপ্রদানকারী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আশার কথা, সাম্প্রতিককালে নাগরিকদের পাশাপাশি তারাও সেবাপ্রদানকারী হিসেবে নিজেদের সংবেদনশীলতা ও দায়দ্ধতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। এ প্রয়োজনীয়তা থেকেই নাগরিক সনদের সূচনা, যেখানে সেবাপ্রদানকারী নির্দিষ্ট সেবাসমূহ প্রদানের জন্য প্রকাশ্যে লিখিত অঙ্গীকার করে। তবে আনুসঙ্গিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেবাপ্রদানের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নাগরিক সনদ বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি; তাই নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে দ্বিতীয় পর্যায়ের নাগরিক সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ মহৎ উদ্যোগে নাগরিক সমাজও সানন্দে সহযোগী হতে চায়। তার অংশ হিসেবে নাগরিক সনদকে আরো কার্যকর করে সেবাপ্রদানকারী প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সংবেদনশীলতা ও দায়দ্ধতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিম্নোক্ত সুপারিশসমূহ উত্থাপন করছি-

  • নাগরিক সনদ সম্পর্কে সরকারী কর্মচারী ও জনগণকে জানাতে এবং সচেতন করতে হবে। এজন্যে সমন্বিত ও সুস্পষ্ট যোগাযোগ কৌশল থাকতে হবে।

  • দ্বিতীয় পর্যায়ের নাগরিক সনদে যে স্থানীয় কমিটি (উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে) গঠন করা হবে তাতে ৮০ শতাংশ সদস্য হতে হবে নাগরিকদের মধ্যে থেকে। কমিটির প্রধানও নির্বাচিত হতে হবে নাগরিকদের মধ্যে থেকে।

  • স্থানীয় কমিটি প্রতি মাসে কমপক্ষে একটি সভা করবে।

  • সময়মত ও যথাযথ সেবা প্রদানে ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহিতা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থাকতে হবে।

  • প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি সেবা প্রদানের সর্বোচ্চ সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে – যার মধ্যে ঐ সেবা অবশ্যই প্রদান করতে হবে।

  • সেবা প্রদান করার সর্বোচ্চ সময়সীমা স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সনদ বাস্তবায়ন স্থানীয় কমিটির মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।

  • সকল সরকারী দপ্তরে সব সেবাগ্রহীতাকে একটি ক্রম বা নিবন্ধন নম্বর দিতে হবে এবং সে অনুযায়ী কাকে কোন সেবাটি কতদিনে দেয়া হচ্ছে তার তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে সংরক্ষণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে সেবা দিতে ব্যর্থ হলে তার কারণও ঐ নথিতে ব্যাখ্যা করতে হবে।

  • সব সেবাগ্রহীতার জন্য একটি মূল্যায়ন ফরম থাকতে হবে – সেবাগ্রহীতা তাতে তার ক্রম নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করে তার সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি জানাবেন। সেসব মূল্যায়ন ফরমের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন কমিটির সভায় উপস্থাপন করতে হবে।

  • একটি অভিযোগ বাক্স থাকবে যাতে সেবা প্রাপ্তিতে অসন্তুষ্ট সেবাগ্রহীতা তার অভিযোগ জানাবেন। ঐ বাক্স কমিটির প্রতিনিধিরা মাসিক সভায় খুলবেন ও ব্যবস্থা নেবেন।

  • নাগরিক সনদ বাস্তবায়ন স্থানীয় কমিটি অভিযোগের তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে তলব, জবাবদিহি ও নির্ধারিত সময়ে যথাযথভাবে ঐ সেবা প্রদানে বাধ্য করতে পারবেন।

  • যথাযথ ও সময়মত সেবা প্রদানে ব্যর্থতার জন্য নাগরিক সনদ বাস্তবায়ন স্থানীয় কমিটি কোন কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করতে পারবেন যা ঐ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবেন।

  • নাগরিক সনদ বাস্তবায়ন স্থানীয় কমিটি সেবাগ্রহীতার মূল্যায়ন ফরমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপজেলা ও জেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সেবা প্রদান এবং কর্মচারীদের দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠতা সম্পর্কে নিয়মিত অবহিত করবেন যেন তারা সরকারী কর্মচারীদের সেবা প্রদান আরো দক্ষ করতে পরামর্শ দিতে পারে এবং তাদের বার্ষিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় তাতে তাদের সাফল্য-ব্যর্থতার প্রতিফলন থাকে।

Advertisements

Posted January 18, 2012 by Abu Ala in Governance

Tagged with , , , , ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: