বন্ধুর স্বপ্ন ও বিরোধীদলের মহা-সমাবেশে সরকারী সহযোগিতা   Leave a comment

সকালবেলায় ফোনের শব্দে ঘুমটা ভাঙলো একরাশ বিরক্তি নিয়ে। ভেবেছিলাম আজ একটু বেশী ঘুমাবো, অফিসে যাবার তাড়া নেই কারণ কাল থেকেই বিরোধীদলের সমাবেশ উপলক্ষ্যে সরকারের অবরোধে রাজধানী অচল, তা আর হলোনা। কানে তুলতেই শুনি বন্ধু ফয়সাল বলছে- শুনেছিস? আজ ভোরে নাকি খালেদা জিয়া মিষ্টি, ফল আর নানা উপহার নিয়ে শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিল। চমক আর বিরক্তি একসাথে করে বলি- শালা, ফাজলামির আর জায়গা পাস না, সকাল সকাল ফালতু কথা বলে মানুষের ঘুম নষ্ট করছিস!  ও বেশ সিরিয়াস গলায় বলে- না শোন সত্যি, খবরে শুনেছি খালেদা গিয়েছে হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে; বলেছে- আমার একবেলার সমাবেশকে চারদিনের অবরোধে পরিণত করার জন্য আপনার কাছে আমি ঋণী। আমি যখন আমার কর্মীদের কোনমতেই মাঠে নামাতে পারছিলাম না তখন তাদের আপনি উৎসাহের একটি উপলক্ষ দিয়েছেন। আপনি তাদের সাহস যুগিয়েছেন এ ধারণা দিয়ে যে আপনি তাদের জমায়েত ও আন্দোলনকে পরোয়া করেন। আমি জনগণের কাজে পৌঁছতে যখন হাবুডুবু খাচ্ছিলাম, আমার পায়ের তলায় মাটি ছিলনা, যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থন করে-তাদের সাথে নিয়ে আন্দোলন করার চেষ্টা করতে গিয়ে যখন আরো গণ-বিচ্ছিন্ন হচ্ছিলাম, তখন আপনি জনগণকে নাজেহাল করে, তাদের যারপর নাই বিরক্ত করে, আমার প্রতি তাদের সহানুভূতি তৈরী করছেন। এটা আপনি এমন সুচারুভাবে করেছেন যে, এমনকি ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী ঘরানার অনেক মানুষও এজন্য এ মুহূর্তে আপনার প্রতি বিরক্ত। আমার জন্য আপনি তার চেয়েও বড় ঝুকি নিয়েছেন, আপনি সবার কাছে নিজেকে উপস্থাপন করছেন এভাবে যে, বিরোধী দলের সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি আপনি শ্রদ্ধাশীল নন, আপনি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেননা; এতে আমার যে উপকার হচ্ছে তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবনা। আমি এখন জনগণকেও বলতে পারবো আপনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী নন, আর আমার বিদেশী মুরুব্বী ও বন্ধুদের ও সহজে বুঝাতে পারবো। আপনার বিদেশী মুরুব্বী ও বন্ধুদের জন্য এখন অনেক কঠিন হবে আমার শুভাকাঙ্খীদের মোকাবেলা করা। এছাড়া, আমার জন্যে এখন অনেক সহজ হবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা করা, আমি বলতে পারবো  যেহেতু আপনি গণতন্ত্র ও মানুষের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করতে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন আপনার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ন্যায়বিচার হবেনা। আমি তাদের সাথে নিয়ে এখন বুক ফুলিয়ে আপনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে পারবো। আমার রাজনৈতিক পূণর্বাসনের জন্য এত বড় অবদান রাখায় আপনার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার কোন শেষ নেই। আপনি ও আপনার দলের এমন উদার সহায়তা না পেলে আমি বার বার প্রধানমন্ত্রী হতে পারতামনা।

বিরোধীদলীয় নেত্রীর এ প্রভাতী উপহার ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশে আবেগে আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনিও বিরোধীদলীয় নেত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ, তার রাজনৈতিক জীবন ও প্রধানমন্ত্রীত্ব লাভে বিরোধীদলীয় নেত্রীর কর্মকান্ডের সুফল ও কম কাজে আসেনি। তিনি এ পারিবারিক সহযোগিতা তাদের পরবর্তী প্রজন্মান্তরে অব্যাহত থাকবে বলে আশা করেন।

বিরোধীদলীয় নেত্রী এতে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন যেন, তার ও তার পরিবার সম্পর্কে বলার বিষয়ে তিনি আরেকটু সতর্কতা অবলম্বন করেন, এসব কথা  নিজে না বলে তিনি দলের তরুণ নেতাদের দিয়ে যেন বলান; এতে তারও মযার্দা রক্ষা হয় আর তাদের প্রকাশ্যে মেলামেশার সুযোগটাও অটুট থাকে। খালেদা আরো বলেন যে, জেলে থাকাকালীন হাসিনার পাঠানো খাবারের স্বাদ তিনি আজো ভুলতে পারেননি। ওগুলো তার এতই ভাল লেগেছিল যে তিনি তারপর থেকে রন্ধন কলায় আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এবং অবসরে অল্প-বিস্তর চর্চাও করছেন। আবার যদি সে ধরণের সুযোগ আসে তবে তিনি তাকে অবশ্যই নিজের রান্না করা খাবার পাঠাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। শেখ হাসিনা খালেদাকে জানান যে তিনি তার রান্না করা খাবার চেখে দেখার জন্যে অধীর অপেক্ষায় থাকবেন।

এত বিস্তারিত শুনার পর আমি বেশ ধন্ধে পড়ে যাই, এটা কি সম্ভব? এটা কি সত্যি? জিজ্ঞেস করি- কোন খবরে শুনেছিস? কোন চ্যানেল? কয়টার সময়? এখনো কি শুনা যাবে? ও বলতে পারেনা! আমি আরো প্রশ্ন করি, সে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। আমতা আমতা করে বলে- তাহলে মনে হয় স্বপ্ন দেখেছি। আমি তাকে গালি দিয়ে বলি- শালা —! — তবে মানসিক ডাক্তারের কাছে যা————-।

Advertisements

Posted March 13, 2012 by Abu Ala in Governance, Politics, Rights, Society

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: