যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবীতে আন্দোলন ও সাম্প্রতিক সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা   Leave a comment

যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের শাস্তির দাবীতে যে আন্দোলন চলছে তা বর্তমার সামাজিক রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষনীয়; প্রথমতঃ বলা হচ্ছে এটা তরুণদের উপর আশা-ভরসা ফিরে পাবার মত ঘটনা। আমি যদিও তরুণদের উপর ভরসা হারানোর কিছু দেখিনা, আবার তাদের সবাইকে একরকম ভেবে গণ-মহত্ব আরোপেও উৎসাহী নই। তবে তারা এটা প্রমাণ করেছে যে তারা তাদের আগের প্রজন্ম গুলোর মতোই রাজনীতি সচেতন ও তৎপর আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস সম্পর্কে জানে ও তা রক্ষায় পিছপা নয়।
দ্বিতীয়তঃ আমাদের জাতীয় কিছু বিষয়ের ‘আওয়ামীকরণ’ হয়ে গেছিল এবার বোধহয় তা ফিরে পাবার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে- জয় বাংলা শ্লোগান চলছে অথচ আওয়ামীলীগের নেতাদের মঞ্চ থেকে দূর দূর করে তাড়াচ্ছে এটা কোন দিন দেখব কল্পনা করিনি।জয় বাংলা শ্লোগানটি আওয়ামীলীগের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার ও পূনঃজাতীয়করণ করতে পারলে মন্দ হয়না।
তৃতীয়তঃ আওয়ামীলীগ যে তাদের দাবী অনুযায়ী “মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি” হিসাবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। তারা যদি জনগনের আস্থা অর্জনের জন্য ফলপ্রসূ কিছু করে না দেখাতে পারে তবে যে গলাবাজি, কূট-রাজনীতি করে আর পার পাবেনা তা নিম্চিত।
চতুর্থতঃ বিএনপি যে “মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির” চেয়ে জামাত ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকেই তাদের বন্ধু বা বেশী শক্তিধর অথবা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে; আর তারা সেজন্য যুদ্দাপরাধীদের বিচারের দাবী যে সমর্থন করেনা তা খোলাখুলিই জানিয়ে দিয়েছে। তা করতে গিয়ে তারা “মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি” হিসাবে আওয়ামীলীগের একচেটিয়াত্বকে ভাঙার যে সুযোগ পেয়েছিল তাও নিতে অস্বীকার করেছে। তাদের কাছে “মুক্তিযুদ্ধের চেতনার”, দেশের মানুষের তা নিয়ে যে আবেগ তারচেয়ে ক্ষমতা দখলের রাজনীতি বেশী গুরুত্ব পেয়েছে। আমার মতে এটা শুধু আদর্শিক দেউলিয়াত্ব নয় বরং দেশের “মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়” বিশ্বাসী সব মানুষের প্রতি অবজ্ঞাও প্রকাশ করেছে। বিএনপি নেতারা কি মনে করে, এদেশে কাদের সংখ্যা ও শক্তি বেশী যুদ্ধাপরাধী-রাজাকার জামাতের না আমাদের?
এটা আওয়ামীলীগের জন্যও প্রযোজ্য- তারা যদি জামাতকে রাস্তায় গুন্ডামী করতে দেখে শক্তিশালী মনে করে আপোষ করতে চায় তবে তাদের এতক্ষণে জেনে যাবার কথা- এদেশের মানুষ ওদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ, তারা রাস্তায় বের হতে জানে আর যদি একবার বের হয় যা চায় তা আদায় করে ছাড়ে; ইতিহাস তার সাক্ষী।
সর্বশেষ, তরুণদের যতই জয়গান হোক, পুরণো ‘মাতবর’রা মাইকের দখল ছাড়তে চায়না; যেমন চায়না পেশাদার আন্দোলনকারীরা। আর এরাই মাইক, মাঠ ও আন্দোলন দখলের পায়তাড়া করে সুযোগ বুঝে বিক্রি; পুরনো চেনা এই ব্যবসায়ীদের সাথে উঠতি কিছু নতুন মুখ যোগ হয়; এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র মত এদেরও এবার একটা শিক্ষা দিতে না পারলে আবারো তারা আমাদের মাথায় কাঠাল ভাঙ্গবে। তাই এ সময় আরো বেশী সতর্ক-সচেতন থাকার।

টিকা: একজন ব্লগারেরর লেখা পড়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ আরেকটা কথা মনে পড়লো- আ্ওয়ামীলীগ- বিএনপি বলতে আমি এদের পালের গোদা শ্রেণীটাকে বুঝাচ্ছি- আমি জানি এ দু‘দলের বেশীরভাগ কর্মী ও সমর্থক আমাদের কাতারে আছেন; তারা আমাদের মতোই এ আন্দোলনে আছেন, থাকবেন। আর তাদের কাছে আমার অনুরোধ- আপনারা কোনমতেই দলীয় রাজনীতিকে এ আন্দোলনে ঘেষতে দিবেন না; আর আপনাদের দলের গোদাদের জানিয়ে দিন- তাদের কাছে আপনারা মাথা বিক্রি করেননি, তারা যদি নিজেদের না শুধরায়, জনগণের কাতারে না আসে, সামনে তাদের একটাই রাস্তা খোলা- আস্তাকূড়।

Advertisements

Posted February 9, 2013 by Abu Ala in Politics, Rights

Tagged with ,

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: