ইনকিলাব ও জামাতীদের আওয়ামীকরণ   Leave a comment

ইনকিলাব পত্রিকা অতি সম্প্রতি একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে কিছু সরকারী দলিলের ছবি সহ (http://einqilab.com/2014/01/16/index.php) – যার বক্তব্য ছিল যে বর্তমান সরকার ভারতের সাহায্য নিচ্ছে সাতক্ষীরা অঞ্চলে জামাতীদের দমনে। সংবাদটি এমন, যেন এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় সামরিক হস্তক্ষেপের মত একটি বিষয় আর এর ভিত্তি ফেসবুকে পাওয়া কিছু সরকারী কাগজপত্রের ছবি যা যারা ফেসবুকে দেখেছেন তাদের অনেকে নিজেরাই জালিয়াতি বলে ধরতে পেরেছেন অথচ সংবাদপত্রের অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা তা পারলেন না, যাদের যে কোন সংবাদ প্রকাশের আগে তা বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখার কথা। সংবাদটি অত্যন্ত গুরুতর কারণ যেভাবে এটা করা হয়েছে তা শুধু সাংবাদিকতার নৈতিকতার ভয়াবহ লংঘনই নয়, তা দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরীর অপচেষ্টা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি; পাশাপাশি এটা কৌতুককরও এজন্য যে এ ইনকিলাব যা বহু বছর ধরে জামাত-শিবিরের মুখপাত্র ছিল তা এর প্রতিষ্ঠাতা রাজাকার মান্নানের মৃত্যুর পর কয়েক বছর আগে মোটামুটি ঘোষণা দিয়েই আওয়ামীলীগ বা এর সরকারের ‘সমর্থন’ করতে শুরু করে। অনেকে তখন বলেছিল যে মান্নান-পুত্র বাবার মৃত্যুর পর জামাতের সাথে স্বার্থের সংঘাতে আওয়ামীলীগের দিকে ঝুঁকেছে। আর সেই ইনকিলাবই এখন আচমকা আওয়ামীলীগের দিকে এক মারণ-শেল ছুড়ল। এটা নিশ্চিতভাবেই জামাত-বিএনপি জোটের পক্ষে এবং চরিত্রগতভাবে জামাতী পদক্ষেপ। এটা এ ইঙ্গিতই দেয় যে সাময়িকভাবে আওয়ামীলীগের পক্ষে দেখালেও চুড়ান্তভাবে ইনকিলাব জামাতীই রয়ে গেছে — । এ ঘটনাটি আরো বেশী গুরুত্বপূর্ণ এজন্য যে এখন আলোচনা শোনা যাচ্ছে জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করা হলে যারা আওয়ামীলীগে যোগ দিবে তারা রাজনৈতিকভাবে পূর্ণবাসিত হবে। সম্পতি আওয়ামীলীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা পাবনায় এক জামাতীকে ‘আওয়ামীতে’ রূপান্তর করে তার কৃতিত্ব দেখানোর পর তার দলের আরো কিছু কীর্তিমান নাকি একই পথ অনুসরণ করেছেন, আর তাতেই এ আশঙ্কা আরো জোরালো হয়েছে। এ কাজের জন্য ঐ নেতা পুরষ্কৃত হয়েছে বলেই আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে। তাই আওয়ামীলীগ এখন ভেবে দেখতে পারে ঐ জামাতীরা সময় বুঝে ইনকিলাবের মতই ডিগবাজী দিয়ে যখন তাদের বাঁদর নাচ নাচাবে তারা তা সামলাতে পারবে কিনা? আর তারা যদি মনে করে, আওয়ামীলীগ বা এর জাতীয়-স্থানীয় পাতি নেতাদের দলে ভেড়াই সব পাপ মাফ হবার একমাত্র শর্ত, তবে তাদের এটা মনে রাখতে হবে যে এদেশের মানুষ কারো কাছে মাথা বাধা রাখেনি, তারা অত্যন্ত বুদ্ধিসম্পন্ন ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন, তাদের বোকাও বানানো যাবেনা, নিস্ক্রিয়ও রাখা যাবেনা, তারা সব অপরাধের হিসাব নিবে পাই পাই করে- তা কালই হোক আর চল্লিশ বছর পর। জামাতীদের আওয়ামীকরণের প্রবক্তাদের এটাও ভেবে দেখা উচিত ছিল যে জামাতীদের সাথে আশনাইয়ের ফলে বিএনপি’র কি হয়েছে- বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে তাদের অবস্থান পুরোপুরি হারিয়েছে, সেই সাথে হারিয়েছে জনগণের একটি বড় অংশের সমর্থন, হারিয়েছে দেশের বৃহত্তম দুটো রাজনৈতিক দলের একটি হিসেবে এককভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা, এমনকি সাংগঠনিক শক্তি ও জন-সম্পৃক্ততাও অনেকাংশে। জামাতী ঘুণপোকা বিএনপিকে ভেতর থেকে ফোঁপরা করে ফেলেছে। জামাতীদের নিজেদের দলে স্থান দিলে আওয়ামীলীগের অবস্থা যে একই রকমের হবে তা বুঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হবার দরকার নেই। আর আওয়ামীলীগের মধ্যে যে ইতোমধ্যেই জামাতীরা ছদ্মবেশে লুকিয়ে নেই তা ভাবার কারণ নেই- আমার পরিচিত জামাতের এক রোকনের পুত্র ছাত্র জীবনে শিবির কর্মী ছিল কিন্তু সাংবাদিকতায় যোগ দিয়েই সে হয়ে গেল আওয়ামীলীগের সাথে ঘনিষ্ঠ এক সাংবাদিক নেতার উপদলের সক্রিয় কর্মী। আমার এক সহপাঠী বর্তমানে জামাত অধ্যুষিত অঞ্চলের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সে শিক্ষকও হয়েছে নাকি জামাতী যোগাযোগের ফলেই কিন্তু ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে নাম লিখিয়ে ছিল, অথচ অনেকেই তখনই জানতো যে সে আসলে শিবির কর্মী, তার পরিবারের জামাত সম্পৃক্ততা ও রাজাকারীর ইতিহাস। এটা জামাতের দলীয় কৌশলেরই অংশ, বিভিন্ন দল ও প্রতিষ্ঠানে নিজেদের ছদ্মবেশী কর্মী ঢুকিয়ে তাদের দিয়ে ক্ষমতা কূক্ষিগত করা; নিদেনপক্ষে দলের কর্মী-সমর্থকদের অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দেয়া। তারা এভাবেই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে তাদের দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, ব্যাংক-বীমা, হাসপাতাল-ব্যবসা ফেঁদেছে। একই প্রক্রিয়ায় তারা বিএনপিকে তাদের উপর নির্ভরশীল করেছে। এখন মনে হচ্ছে আওয়ামীলীগের পালা। আওয়ামীলীগকে পাশাপাশি পুরো দেশকে এমন ঝুঁকির মুখে ফেলার পর, স্বাধীনতা বিরোধী, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধকারী, তাদের আদর্শে বিশ্বাসী ও সমর্থকদের পূর্ণবাসন করার সুব্যবস্থা করার পরও সেসব আওয়ামীলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় বা দলের মধ্যে কোন জোরালো সমালোচনাও না হওয়ায় এ আশঙ্কাই তীব্র হচ্ছে যে আওয়ামীলীগ আদর্শিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে, এমনকি নিজেদের ভাল হবে কিসে সে বোধও তাদের ভোঁতা হয়ে গেছে অথবা আওয়ামীলীগে ঘাপটি মেরে থাকা জামাতীরা এখন বোধহয় যথেষ্টই শক্তিশালী।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: