Archive for the ‘Emergency’ Category

বউ হলেই পেটানো যায় ???   Leave a comment

আজ সন্ধ্যায় হাটতে হাটতে আগারগাঁও রেডিও সেন্টারের কোনায় পৌছতেই দেখতে পেলাম একটি খাঁটো গাট্টা-গোট্টা লোক একজন মেয়ের গলা ধরে ধস্তাধস্তি করছে আর সে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে; ২০ গজ দূরেই কিছু রিক্সা আর মানুষ দাড়ানো কিন্তু তারা তা খেয়াল করেছে কিনা বুঝলাম না। আমি একটু খেয়াল করে এগিয়ে গেলাম নারীটিকে ছাড়ানোর জন্য। আমি যখন পুরুষটিকে বলছিলাম নারীটিকে ছেড়ে দিতে তখন আরো কয়েকজন লোক এগিয়ে এলো ও ওকে বাধ্য করলো নারীটিকে ছেড়ে দিতে। এ সময় অত্যন্ত আক্রমনাত্মক পুরুষটি বলতে লাগলো যে নারীটি তার স্ত্রী আর নারীটি তা অস্বীকার করার সব চেষ্টা করতে লাগলো – এটা শুনে যারা এগিয়ে এসেছিলো তারা চলে যেতে লাগলো আর এ সুযোগে পুরুষটি সজোরে নারীটিকে আঘাত করলো। আমি সাথে সাথে বললাম যে অনেক অপরাধীরা নারীদের আক্রমন করার সময় এমন বলে; এটা শুনে যারা চলে যাচ্ছিল তারা আবার ফিরে আসলো। এসময় আক্রমনকারী কারো উদ্দেশ্যে হাক দিলো এগিয়ে আসার জন্য – কিছু তরুন এসে আমাদের আক্রমনাত্মক ভাবে ঘিরে ধরলো এবং আমরা কারা, কেন স্বামী-স্ত্রীর বিষয়ের মধ্যে নাক গলাচ্ছি এসব জিজ্ঞেস করতে লাগলো- আমি সাহস ধরে রেখে বললাম যে আসি একজন পথচারী, নারীটিকে আক্রান্ত দেখে এগিয়ে এসেছি; আরো বললাম যে স্ত্রী হলেই তাকে পেটানো যায় না, এটা অপরাধ; শুনে তারা আশ্বস্ত হলো ও আক্রমনকারীকে বললো বাড়ি যেতে। নারীটি বলতে লাগলো যে সে তার স্ত্রী নয়, আলাদা থাকে, তা্র মেয়েকে ঐ লোকটি তুলো এনে আটকে রেখেছে, সে মেয়েকে দেখতে এসেছিল আর তাকেও আটকে রাখতে চাচ্ছে। এসময় আক্রমণকারী অত্যন্ত ক্ষূদ্ধ হয়ে আমার দিকে তেড়ে আসলো । তাকে অন্যরা নিবৃত্ত করলো, আর আমাকে বললো চলে আসতে; আমি চলে আসার সময় এগিয়ে আসা আশেপাশের কিছু নারীকে বললাম আক্রান্ত নারীটিকে সহায়তা করতে। পুরুষটি চিৎকার করছিল যে সে নারীটিকে মেরেই ফেলবে তাই আসতে আসতে অনেক চেষ্টা করলাম পুলিশের সাহায্যের জন্য জরুরী নম্বর ৯৯৯ তে ফোন করতে কিন্তু কোন মতেই তাতে সংযোগ পেলাম না। আমি জানিনা নারীটির শেষ পর্যন্ত কি হলো, হয়তো এবারের মত সে মার খাওয়া থেকে বেচে গেছে, নয়তো বাড়িতে আরো বেশী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে —–

কিন্তু আজকের এ অভিজ্ঞতা থেকে কিছু জিনিস আবারো শিখলাম, তা হলো –

  • এখনো আমাদের অধিকাংশ মানুষের বিশ্বাস বউ পেটানো জায়েজ; আর এটা ঘরের বিষয়, অন্যদের নাক গলানো উচিৎ নয়

  • রাস্তায় কেউ আক্রান্ত হলে কেউ প্রথমে এগিয়ে যেতে চায়না, তবে কেউ একজন এগিয়ে গেলে অন্যরা তাতে যোগ দেয়

  • আমাদের আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সাহায্য চাওয়ার সুযোগ এখনো মধ্যযুগে পড়ে আছে; যার আধুনিকায়ন খুবই জরুরী

এমন পরিস্থিতিতে করনীয় সম্পর্কে আমার পরামর্শ

১. কাউকে (বিশেষতঃ নারী) আক্রান্ত হতে দেখলে এগিয়ে যান; চেষ্টা করুন আশে-পাশে যারা আছে তাদের সাথে নিয়ে এগুতে, সংখ্যার শক্তি বড় শক্তি

২. আপনি আগালে দেখবেন অন্যরাও আপনার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে

৩. নিজেরা এগিয়ে যাবার আগেই চেষ্টা করুন জরুরী সাহায্যের জন্য ৯৯৯ বা স্থানীয় পুলিশের নাম্বারে ফোন করতে (যদি পাওয়া যায় তবে তাদের আসতে সময় লাগবে তাই যত আগে তাদের খবর দেয়া যায় তত ভাল)

৪. নিজে যখন সাহায্য করতে যাবেন তখন যতদূর সম্ভব শান্ত থাকবেন; উত্তেজনা বা আক্রমনাত্মক আচরণ করবেনা

৫. কোন রকম দূর্বলতা বা ‘নার্ভাসনেস’ যেন আপনার আচরণে প্রকাশ না পায়

৬. বলূন যে যদি কোন অভিযোগ থাকে তা পুলিশকে জানাতে, নিজে কাউকে আক্রমণ না করতে; কাউকে আক্রমণ করা যে অপরাধ তা স্মরণ করিয়ে দিন

৭. নারীর উপর আক্রমণ, এমনকি স্ত্রী বা পরিবারের অন্য যে কোন সদস্য হলেও যে ঘৃণ্য অপরাধ তা মনে করিয়ে দিন

৮.এ ধরণের আক্রমণকারীরা সাধারণতঃ মানসিক ও নৈতিকভাবে দূর্বল হয় যা তারা ঢাকার চেষ্টা করে আক্রমনাত্মক আচরণ দ্বারা, আপনি শান্ত ও যৌক্তিক আচরণ করলে তারা মানসিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়বে

৯. যদি তার পক্ষ নিতে কেউ আসে তাকেও বুঝিয়ে বলূন কেন কাজটি খারাপ এবং তাকেই অনুরোধ করুন তা থামাতে

১০.সব সময় সতর্ক থাকবেন, যাতে আপনি নিজে না আক্রান্ত হন; প্রায় সবক্ষেত্রেই আপনি সফল হবেন

১১. যদি কখনো আক্রান্ত হন তবে যতদ্রুত সম্ভব দৌড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান এবং অন্যদের সাহায্য নিন, দাড়িয়ে থাকবেন না

সবাইকে এসব বিষয়ে সচেতন করুন, যখনি সম্ভব—-

Advertisements