Archive for the ‘Natural Resource Management’ Category

গ্রামের জঙ্গলের বন্যপ্রাণী সমাচার   Leave a comment

ছোটবেলায় যখন গ্রামে যেতাম শেয়াল, খেক-শেয়ালের ডাক খুব সাধারণ ব্যাপার ছিল। বনবিড়াল ও ছিল। মাঝে মাঝে লোকজন মিলে তাদের মারতেও বের হতো যখন হাঁসমুরগির উপর তাদের হানা বেড়ে যেতো। মাঝে অনেক বছর এদের তেমন কোন সাড়াশব্দ পেতামনা; ভেবেছিলাম এরা বোধহয় হারিয়েই গেছে। গত কয়েক বছর ধরে শেয়ালের উৎপাতের কথা শুনে আসছি; বিশেষ করে পাগলা শেয়ালের মানুষ কামড়ানোর কথা। তারপর নিজেও দিনেদুপুরে রাস্তাঘাটে দেখলাম; আর রাতে তো সারা গ্রাম তাদেরই দখলে থাকে। কুকুরগুলো নাকি তাদের ভয়ে লুকিয়ে থাকে। গত ধানের মৌসুমে ধানক্ষেতের ফাঁকে একটি বনবিড়ালও দেখলাম বহুবছর বাদে। মনটা বেশ খুশী হয়ে গিয়েছিল যে এসব বন্যপ্রাণীরা এখনো টিকে আছে; তাদের সংখ্যা বাড়ছে তাই দেখা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় আমার ক্ষণস্থায়ী আনন্দ আতঙ্কে পরিণত হচ্ছে- প্রথমতঃ লোকজন শেয়ালের উৎপাতে খুব বিরক্ত, হাঁস-মুরগী, ছাগল নিয়ে যাচ্ছে; দ্বিতীয়তঃ মানুষকে কামড়াচ্ছে, দুদিনে বেশ কয়েকজন মানুষকে কামড়েছে বলে শোনা গেছে। তৃতীয়তঃ এবার “ওয়াপ” (বনবিড়াল) ও মানুষকে কামড়েছে বলে শুনলাম; যার ফলে একটি বনবিড়ালকে মেরেও ফেলা হয়েছে। গিয়ে দেখি একটা ছোট বনবিড়ালকে মেরে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ’টি নাকি ঘরে ঢুকে একটি বাচ্চাকে কামড়েছে। আমার মনে হল বিড়ালটি আত্মরক্ষার জন্য এ কাজ করেছে। পাগলা বেড়ালে কামড়ানোর কথা তো আগে শুনিনি; তা ছাড়া বনবিড়াল লাজুক, গোপনীয়তা প্রিয় প্রাণী, মানুষের সামনে তো সহজে পড়তে চায়না।

এ ঘটনা আমার মনে কিছু প্রশ্নের জন্ম দিল, যা আশঙ্কার- এক, আমি যে ভেবেছিলাম এসব বন্য প্রাণীগুলো টিকে আছে তা কি সঠিক? নাকি অবশিষ্ট যে কয়টা আছে সেগুলোও এখন লুকিয়ে থাকার জায়গা পাচ্ছেনা, পাচ্ছেনা খাবার আর তাই ঝুঁকি নিয়ে মানুষের কাছাকাছি, তাদের সামনে আসতে হচ্ছে। গ্রামে যে হারে জঙ্গল আর গাছ-পালা কমছে তাতে সেটা হবার সম্ভাবনাই বেশী। অন্যদিকে মানুষের উপর তাদের আক্রমণ যে কারণেই হোক তা যে তাদের উপর প্রতিশোধমূলক হামলা আরও বাড়িয়ে দিবে তা বলাই বাহুল্য। মোদ্দাকথা সাম্প্রতিককালে কেন এসব প্রাণীর মানুষের ওপর আক্রমণ ও তাদের প্রকাশ্যে দেখা যাওয়া বেড়ে গেছে তা বৈজ্ঞানিকভাবে অনুসন্ধান করে সংরক্ষন ব্যবস্থা না নিলে এরা যে দ্রুতই হারিয়ে যাবে তা নিশ্চিত। সম্ভবত এটাই আমাদের শেষ সুযোগ এদের টিকিয়ে রাখার।