Archive for the ‘power’ Tag

প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা ও ছাড় দেয়ার মানসিকতা ও আমাদের ভবিষ্যত   Leave a comment

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব তারানকো সাহেব এসে সপ্তাহব্যপী দুতিয়ালী করে বলে গেলেন প্রধান দুই দল সদিচ্ছা ও ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে আলোচনা করলেই সমাধান সম্ভব। তার এ কথায় আমাদের টেলিভিশনের ‘প্যাচাল অনুষ্ঠানের’ নিয়মিত আলোচকরা উষ্মা প্রকাশ করে বলেছেন যে তারা যে কথা গত দু’বছর যাবৎ বলছেন তাই তো বললেন তারানকো সাহেব, এ আর নতুন কি? তারা দেশী আদমী বলে তাদের কথা সেভাবে পাতে তোলা হয়নি । কথাটা মিথ্যা না, তবে তার সাথে যোগ করে বলতে হয় যে তারা যেমন দিন শেষে নিজ নিজ গোয়ালে উঠেন আর অনুষ্ঠানেও দলের পাতে ঝোল টানেন, তারানকো সাহেব বোধ হয় তা করেননি। আর তিনি দুই পালের গোদাদের এক খাটালে কিছুক্ষণের জন্য জাবনা দিতে পেরেছিলেন যা আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলের নেত্রীকে ফোন করেও করতে পারেননি। মনে হয় এটা পুরনো অভ্যাস, ঔপনিবেশিক কাল থেকে এদের রাখালীতে অভ্যস্ত এদেশের রাজনীতির পান্ডারা রাখাল ছাড়া নিজেদের একটু অনিরাপদ মনে করে। যা হোক, জাতিসংঘের চাপে আর সাথে অন্য যে কোন কারণে হোক, আলোচনায় বসলেই কি এ অবস্থা থেকে পুরো জাতির মুক্তি পাবার কোন আশু সম্ভাবনা আছে কিনা?

এবার দেখা যাক আমাদের রাজনীতি বা রাজনীতির পান্ডাদের চরিত্র কেমন? সবচেয়ে বেশী দেখা গেছে যেভাবেই হোক যত বেশীদিন সম্ভব ক্ষমতায় থাকার প্রবণতা, অথবা অন্যভাবে বলতে গেলে ক্ষমতার বাইরে থাকার ভীতি। এর একটি কারণ যেমন ক্ষমতার দই-মিষ্টির লোভ তেমনি ক্ষমতাসীন দলের দমন-পিড়নের ভয়। রাজনীতির প্রধান দলগুলো এমন এক শত্রুতার আবহ তৈরী করেছে যে এমনকি তাদের পান্ডাদের মধ্যে পারষ্পারিক শ্রেণীগত বিয়ে-শাদী, ব্যবসা, ভাগ-বাটোয়ারার সম্পর্ক থাকার পরও কারো কারো জেল খাটতে হয়, দেশ ছাড়তে হয়, মামলা খেতে হয় বা পুলিশের প্যাদানী সইতে হয়। আর কয়েক বারের ক্ষমতা বদলের পালাক্রমে এসব শোধ-প্রতিশোধের হিসাব এত জমে গেছে যে এখন কেউই আর ক্ষমতা ছাড়তে চায়না। বাস্তবতা হলো যে একপক্ষই মসনদে থাকে, বাকিরা বাইরে কিন্তু এ বাস্তবতা মেনে নিতে যেন তাদের বড়ই আপত্তি। ক্ষমতা ছাড়া হলে যেন তাদের মাথা খারাপ হয়ে যায়, তারা যে কোন উপায়ে তা ফিরে পেতে প্রায় ‘ভাদ্র মাসের কুকুরের’ মত আচরণ করে, যেমনটা করে ক্ষমতাসীনরা টিকে থাকতে। এক্ষেত্রে তারা জনমত বা জন-সমর্থনের থোড়াই কেয়ার করে । তারা জন সমথর্ন আদায় বা জন-কল্যাণের কোন চেষ্টা না করে, করতে থাকে নানা ষড়যন্ত্র, কারসাজি (এ বিষয়ে আমার পূর্বের লেখায় ব্যাখ্যা আছে, দেখুন- http://wp.me/p1JhsE-3C)।  আর বর্তমান রাজনীতির পান্ডাদের মধ্যে জন-সম্পৃক্ত রাজনৈতিক কর্মীর চেয়ে লুটেরা ব্যবসায়ী, দূর্নীতিবাজ সাবেক আমলা আর গুন্ডা, পেশাদার অপরাধীর সংখ্যাই বেশী, তারা যখন দলের নীতি নির্ধারণ প্রভাবিত করে তখন জনগণকে মনে করে বলির পাঠা, তাই জন-বিচ্ছিন্নতাও বাড়ছেই।

এমন অবস্থায় বিরোধীদল ক্ষমতায় যেতে বা সরকারী দলকে বিপদে ফেলতে রাস্তায় মানুষ পোড়ায়, বোমা মারে, রেললাইন খুলে রেখে গাড়ি ফেলে দিয়ে মানুষ হত্যা করে, যেগুলো কোন যুদ্ধাবস্থায়ও সাধারণত হয় না।তারপরও তারা কোন দূঃখ প্রকাশ করেনা, এসব থেকে বিরত থাকতে তাদের দলীয় ক্যাডারদের একটি বারও বলেনা, উল্টো নির্লজ্জভাবে বলে যে এসব করছে সরকারী দলের লোকেরা বা আরও ঔদ্ধত্ত দেখিয়ে বলে সরকার তাদের এসব করতে বাধ্য করছে। অন্যদিকে সরকারী দল বিরোধীদের সাথে সমঝোতা করতে, সংঘাতের অবসান ঘটাতে অথবা জনগণের শত্রু এসব অপরাধীদের ধরতে, শাস্তি দিতে, জনগণের নিরাপত্তা দিতে তেমন গা করেনা। হয়তো এ আশায় যে এতে জনসমর্থন তাদের দিকে ঝুঁকবে। এমনকি বিরোধীরা যদিও বলে ক্ষমতাসীন দল এসব করাচ্ছে তাদের উপর দায় চাপাতে, যখন ক্ষমতায় যায় তখন তারা এসবের কোন বিচার করেনা।উতোর-চাপান চলতেই থাকে কিন্তু দু’পক্ষই যেহেতু একই দোষে দোষী, কেউই এসব নিয়ে ঘাটায়না, কারণ সাধারণ জনগণের ভালমন্দ নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই আর ঘাটাঘাটি করলে নিজেদেরও ফেসেঁ যাবার ভয় আছে। এমন একটি অবস্থায়  ‘প্রধান দুই দলের সদিচ্ছা ও ছাড় দেয়ার মানসিকতা’ কতটুকু আশা করা যায়? কিসের ভিত্তিতে?

এক্ষেত্রে আরেকটি বড় ‘গলার কাঁটা’ হলো জামাত-শিবির ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। প্রধান বিরোধীদলের সাথে তাদের গাটছড়ার কারণে নির্বাচনে নিষিদ্ধ এ দলটিকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচন বা সমঝোতায় কতটুকু আগ্রহী হবে তা একটি প্রশ্ন, আরেকটি প্রশ্ন হলো মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী যারা জামাতকে নেতৃত্ব দিত তাদের নিয়ে কি করা হবে তা বিএনপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে কিভাবে প্রভাবিত করবে। অনেক ‘ওয়াকিবহাল’ মহল বলছেন যে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের দিক থেকে কিছুটা নমনীয়তা দেখানোর পরও সমঝোতার চেষ্টা আগাতে পারেনি কারণ এ মূহুর্তে বিএনপি নির্বাচনে, এমনকি ক্ষমতায়, যেতেও আগ্রহী নয় কারণ তাহলে তাদের এ কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে যেখানে হয় তাদের নিজেদের রাজনৈতিক সহযোগীদের ফাসিঁর দড়িতে ঝুলাতে হবে অথবা তা না করে দেশের বেশীরভাগ মানুষের রোষ সামাল দিতে হবে। তাই তারা চাচ্ছে সময় ক্ষেপন করতে যাতে কোন প্রকারে আওয়ামীলীগকে নতি স্বীকার করাতে পারে যাতে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার পর যাই করুক প্রতিরোধের মুখে পড়তে না হয় আর মানুষকে আন্দোলন-প্রতিবাদে বিরক্ত, ক্লান্ত করে তোলা যায় যেন যুদ্ধাপরাধীদের সাজা না দিলেও প্রতিরোধ তেমন তীব্র না হয়। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল জানে তাদের জন-সমর্থন সুবিধার না, সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে গো-হারা হেরেছে, তার পর এমন কিছু করতে পারেনি যে তা বদলে যাবে, তাদের ভরসা তাদের ভোট ব্যাংক, আর যেন-তেন একটা নির্বাচন। বিরোধীদল না থাকলে তাদের সুবিধাই হয়।

এটা যদি সত্য হয়, তবে আমাদের রাজনীতির পান্ডাদের বেপরোয়া ক্ষমতার খায়েশ আর জনগণের প্রতি অবজ্ঞা-উপেক্ষার পাশাপাশি সন্ত্রাসী-যুদ্ধাপরাধী জামাত-শিবিরের প্রভাব যদি ক্ষমতার রাজনীতির এ হিসাবে যোগ হয় হবে ‘সদিচ্ছা ও ছাড় দেয়ার মানসিকতা’র সন্ধান পাওয়া বেশ কঠিনই হবে।

তাহলে আমরা কি করবো? এ আশায় বসে থাকবো যে কবে পান্ডাদের চরিত্র বা মানসিকতা ভাল হবে? নাকি আমাদের কিছু করনীয় আছে?

আমাদের করনীয় অনেক কিছুই আছে, তবে প্রশ্ন হলো আমরা যেভাবে দু’গোয়ালে বিভক্ত তাতে আমরা তা করতে পারবো কিনা?

 

Advertisements

Posted December 15, 2013 by Abu Ala in Politics

Tagged with , , , , , ,